logo

মঙ্গলবার ১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ - ৫ই মাঘ, ১৪২৭ - ৫ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

শিরোনাম

বোয়ালখালীতে চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন ঘরে ভাঙচুর, আদালতে মামলা
৭ নভেম্বর, ২০২০

বোয়ালখালী প্রতিনিধি :: বোয়ালখালীতে পাকাঘর নির্মাণকালে চাহিদামতো চাঁদা না পাওয়ায় নির্মাণকৃত ঘরে ভাঙচুর চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। বোয়ালখালী পৌরসভাধীন ৭নং ওয়ার্ডের হাজী মো. সামশুল আলম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন নির্মাণাধীন ঘরের সামনে এঘটনা ঘটে। এঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জানাযায়, বোয়ালখালী পৌরসভাধীন ৭নং ওয়ার্ডের সামশুল আলম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ২০০৩ সালে ১৩শতক জমি ক্রয় করেন স্থানীয় মরহুম ছৈয়দ আহমদ ছেলে ফয়েজ আহমদ। জায়গা ক্রয়ের দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর পর ক্রয়কৃত ১৩ শতক ভূমির মধ্যে ৫শতক ভূমিতে পাকা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন মরহুম ফয়েজ আহমদের পুত্র মধ্যপ্রাচ্যের আবুধাবী প্রবাসী খোরশেদ আলম। খোরশেদ আলম দেশে থেকে তিনতলা ভবনের নিচথেকে শর্ট কলাম পর্যন্ত কাজ করে মধ্যপ্রাচ্যের আবুধাবীতে চলে যায়। এরপর খোরশেদ আলমের স্ত্রী নাহিদা আকতার তার দেবর মুনছুর আলমকে সাথে পাকা ঘরের নির্মাণ কাজ চালিয়ে নেন। ঘরের ১৫টি পিলার সম্পুর্ণ হয় এবং তিনটি পিলারের কাজ বাকী আছে। এরই মধ্যে স্থানীয় মৃত জহির উল্লাহর পুত্র শফিউল আলমগং লোভের বশবর্তী হয়ে ঘর নির্মাণ করতে চাইলে ১লাখ টাকা চাদী দাবী করেন। চাহিদা মতো টাকা দিতে মামলার বাদী অস্বীকৃতি জানালে গত ৪ অক্টোবর সকাল ৯টা দিকে শফিউল আলমের নেতৃত্বে গত আরো ১২/১৩ লোক নির্মাণাধীন ঘরে ভাংচুর চালায়। এতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ভবিষ্যতে ঘর নির্মাণ কাজ করিলে আগে চাদা দিতে হবে অন্যথায় ঘর নির্মাণ কাজ করলে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেয় বলে জানান মামলার বাদী।

এঘটনায় নাহিদা আকতার বাদী হয়ে স্থানীয় মৃত জহির উল্লাহ’র পুত্র শফিউল আলম, বাচা মিয়া, খোরশেদ আলম, আব্দুর রহমান, ছিদ্দিক আহমদের পুত্র ওবায়দুল হক, খোরশেদ আলমের পুত্র মোহাম্মদ রাশেদসহ আরো ৭/৮জনকে অজ্ঞাত নামা আসামী করে চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে বোয়ালখালী থানাকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী নাহিদা আকতার বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর পূর্বে আমার শ্বশুর জায়গাটি ক্রয় করেছেন। জায়গা ক্রয়ের ১৫ বছর পর ঘর নির্মাণ কাজ আরম্ভ করেছি। এখন ঘরের প্রায় ১৫টি পিলারের কাজ সম্পুর্ণ হয়েছে এবং তিনটি পিলারের কাজ বাকী আছে। কতিপয় লোকজনের কুপরামর্শে হঠাৎ করে এসে শফিউল আলমগংদের জোরপূর্বক চাদা ছেয়ে না পেয়ে জায়গা পাওয়ার অজুহাত তুলে আমাদের ঘর নির্মাণ কাজে বাধা দেয়া দুঃখজনক। তাদের পুর্বপুরুষ জায়গা বিক্রি করে দিয়েছেন। শুধুমাত্র লোভের বশবর্তী হয়ে তারা গৃহ নির্মাণ কাজে বাধা দিচ্ছেন।

জানতে চাইলে মামলার ১নং আসামী শফিউল আলম বলেন, আমরা পৈত্রিক সুত্রে তাদের নির্মাণাধীন ভূমিতে জায়গা পাবো। একপ্রশ্নের তিনি বলেন, চাদা চাওয়ার বিষয়টি ঠিক নয়, আমরা বলেছি আমাদের কিছু কাগজপত্রে সমস্যা আছে সেগুলো ঠিক করার জন্য আমাদের একলাখ টাকা দিয়ে ঘর নির্মাণ কাজ করতে। কাগজপত্র ঠিক না থাকলে কিভাবে একলাখ টাকা চাইলেন এবং সেটা চাদা চাওয়ার পর্যায়ে পড়া কিনা জানতে চাইলে তিনি নিশ্চুপ থাকেন।

অপর একপ্রশ্নের জবাবে শফিউল আলম বলেন, আমরা ওয়ারিশ সুত্রে আর.এস খতিয়ান মুলে জমি দাবী করছি। আপনাদের নামে বা আপনাদের পূর্ব পুরুষের নামে কেন বি.এস খতিয়ান হয়নি জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।

বি.এস খতিয়ান আপনার বা আপনাদের পূর্ব পুরুষের নামে না আসার পরও বি.এস সংশোধনী মামলা না করে ঘর নির্মাণ কাজে বাধা দেয়া যুক্তিসঙ্গত কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দেয়নি।

এব্যাপরে জানতে চাইলে বোয়ালখালী থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো.ওমর ফারুক বলেন, পাকা ঘর নির্মাণকালে ১ লাখ টাকা চাদা চাওয়ার এবং নির্মাণাধীন ঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ এনে নাহিদা আকতার বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত চলছে।

সর্বশেষ খবর

আরো খবর

আজকের সংবাদের প্রচারিত কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by SaraBpo