logo

রবিবার ৩১শে মে, ২০২০ - ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ - ৭ই শাওয়াল, ১৪৪১

বোয়ালখালীর পৌরমেয়রকে ত্রাণ বিতরণে সম্পৃক্ত না করায় জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ
৫ মে, ২০২০

নিজস্ব প্রতিনিধি :: সরকারি ত্রাণ বিতরণে সম্পৃক্ত না করায় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বোয়ালখালীর পৌর মেয়র হাজী আবুল কালাম আবু।ইউএনও আছিয়া খাতুনের বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ এনে রবিবার (৩মে) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে তিনি এ অভিযোগ দায়ের করেন।

জেলা প্রশাসককে দেওয়া চিঠিতে পৌর মেয়র আবু লিখেছেন, দেশের করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন দফায় ত্রাণ বরাদ্দ দিয়েছেন।

সারা বাংলাদেশে সরকারি নির্দেশনা অনুসারে ইউএনও পৌরসভার জন্য বরাদ্দ ত্রাণ পৌর মেয়রকে বুঝিয়ে দেন। পৌর এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মাধ্যমে এলাকার ত্রাণ পাওয়ার উপযুক্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করে মেয়র স্বাক্ষরিত ‘মাস্টার রোল’ (বরাদ্দ তালিকা) ইউএনও বরাবরে পৌঁছে দেওয়া হয়।

কিন্তু ইউএনও নিয়ম না মেনে ত্রাণ বিতরণ করায় অবশেষে বাধ্য হয়ে ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় ‘শৃঙ্খলা’ আনতে ও ‘বিতরণের’ অনিয়ম তদন্তে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন গত ছয় বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা এই পৌর মেয়র।

আবুল কালাম আবু বলেন, বিএনপির বলে তাকে বাদ দিয়ে কাউন্সিলরদের মাধ্যমে সরকারি ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

উপজেলায় অষ্টম কিস্তিতে সরকারি ত্রাণ বরাদ্দ এলেও আমাকে কোনো ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই আমি জনপ্রতিনিধি।

আমি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। গত ছয় বছর ধরে পৌরসভার মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেছি।

এরআগে প্রায় ১২ বছর উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলাম।

আমি থাকতে আমাকে এড়িয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মাধ্যমে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। আমি অন্য দল করি। তাই আমাকে ইনসাল্ট করা হচ্ছে, এটা অবিচার।

ত্রাণ বিতরণে নিয়ম না মানায় প্রকৃত অসহায়রা ত্রাণ পাচ্ছেন না দাবি করে মেয়র আবু বলেন, সাধারণ জনগণ আমার কাছে জানতে চায়। কিন্তু আমাকে কিছু জানানো হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আছিয়া খাতুন উপজেলা ত্রাণ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিটির সিদ্ধান্তে পৌরসভায় ওয়ার্ডভিত্তিক ত্রাণ বরাদ্দ দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ।

তিনি বলেন, উনি আমাকে বরাদ্দ না পাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেননি, আমার কাছে আবেদনও করেননি। তবে শুরুতে তিনি ত্রাণ প্রয়োজন এমন লোকজনের তালিকা দিয়েছিলেন।

এ সংক্রান্ত যে উপজেলা পর্যায়ের কমিটি আছে। সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ অনেকেই আছেন। কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে পৌরসভার জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ত্রাণে বিতরণের সিদ্ধান্ত তিনি একা নেননি দাবি করেন ইউএনও আছিয়া খাতুন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, এরকম কোনো অভিযোগ এখনো হাতে পাইনি। বিষয়টা এরকম না।

মূলত ওয়ার্ড কাউন্সিলরাই মাঠ পর্যায়ে ত্রাণ বিতরণ করেন, মেয়র তো আর করেন না।

তবে পৌর মেয়র জানেন না, এটা বলাটা স্বাভাবিক নয়। জনপ্রতিনিধি হিসেবে উনার জানার কথা। অভিযোগ হাতে পেলে দেখব।

আরো খবর

আজকের সংবাদের প্রচারিত কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by GrameenFox