logo

বুধবার ২৭শে মে, ২০২০ - ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ - ৩রা শাওয়াল, ১৪৪১

আক্কাস বাহিনীর আতংকে এলাকাবাসী
১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বায়েজিদ বোস্তামি থানাধীন ছিন্নমূল এলাকায় ২০১২ সালে আক্কাস র‍্যাবের ক্রসফায়ারে মারা গেলেও রয়ে গেছে তার ভয়ংকর এক গ্যাং। মাঝির ঘোণা, আরেফিন নগর, ছিন্নমূল, বাংলা বাজারসহ আশপাশের এলাকা জুড়ে রয়েছে তাদের প্রভাব। গ্যাংএর প্রধান সক্রিয় সদস্য একাধিক মামলার আসামী জাবেদ পাটোয়ারী ও মশিউর রহমান। আক্কাসের মৃত্যুর পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেছে তাঁরা। আক্কাস নিহত হওয়ার পরে এলাকায় রাজত্ব কায়েম করেছে তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী মশিউর ও জাবেদ পাটোয়ারী। মশিউর একাধিকবার র‍্যাব ও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছে। মশিউর বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। যার ফলে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাবেদ। বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় জাবেদ গড়ে তুলেছে একটা কিশোর গ্যাং। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম এ মোরশেদ খানের একান্ত আস্থাভাজন আক্কাসের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত ছিলো জাবেদ পাটোয়ারী।

সন্ধ্যা হলেই দিনমজুর ও গার্মেন্টস কর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে জাবেদের গ্যাং। আতংকে জীবনযাপন করেন খেটে খাওয়া মানুষগুলো। জাবেদ পাটোয়ারী ও মশিউর রহমান রবাহিনীর বিরুদ্ধে কোন ধরনের অভিযোগ করার সাহস পায় না এলাকাবাসী। অভিযোগ করলেই নেমে আসে তাদের উপর ভয়ানক নির্যাতন। এক সময়ের শান্ত বাংলাবাজার আজ অশান্তির আখড়ায় রুপান্তরিত হয়েছে। কয়েকজন ভুক্তভোগী জানায়, কিছুদিন আগেই জাবেদ বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়ে ভুক্তভোগীরা বায়েজিদ বোস্তামী থানায় যান। কিন্তু পুলিশ জাবেদ বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর পরে ভুক্তভোগীরা আদালতে গিয়ে দর্শন, চাঁদাবাজিসহ বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করেন। তারপর থেকে সে আত্মগোপনে চলে যায়। আত্মগোপনে গিয়ে মামলার বাদীদের বিভিন্ন ভাবে মুঠোফোনে প্রাণ নাশের হুমকি-ধমকি প্রদান করে আসছে।

উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বরে বিকেলে এক ব্যবসায়ী পারভেজ তারেকের কাছে চাঁদা দাবি করে জাবেদ পাটোয়ারী। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় রাত আনুমানিক ১১.৩০ ঘটিকার সময় দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে জাবেদ বাহীনির সঙ্গপাঙ্গ দিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে পারভেজ তারেকের উপর। পরে স্থানীয়রা ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। কর্মরত ডাক্তার বলেন ঠিক সময় নিয়ে যাওয়ায় প্রানে বেঁচে গেছেন। ডাঃ আরো বলেন তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে ছিয়াশিটি সিলাই হয়েছে। এখন অনেকাংশেই পঙ্গুত্ব জীবন যাপন করছেন ওই ব্যবসায়ী পারভেজ তারেক। উক্ত ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় জাবেদসহ ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন পারভেজ তারেকে। কোট সূত্রে জানা যায়, উচ্চ আদালত থেকে সাতজন জামিন নিয়ে এসেছেন। ভুক্তভোগী পারভেজ তারেক জানা যায়, তাঁরা জামিনে এসে আমাদের বসত ঘরে দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। মামলা তুলে না নিলে মেরে লাশ ঘুম করে পেলবে বলেও হুমকি-ধামকী দেয় তার। বর্তমানে আদালত অবমাননার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী।

এ কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি প্রিটম সরকার জানান, আদালতের ওয়ারেন্ট কিত আসামি জাবেদ পাটোয়ারী সহ অন্যদের গ্রেফতার অভিযান চলমান রয়েছে।

আরো খবর

আজকের সংবাদের প্রচারিত কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by GrameenFox