logo

মঙ্গলবার ২রা জুন, ২০২০ - ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ - ৯ই শাওয়াল, ১৪৪১

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নীলামের অপেক্ষায় ৭টি জীপ গাড়ি
২১ অক্টোবর, ২০১৯

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে প্রায় ৩০ বছর ধরে নীলামের অপেক্ষায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে ৭টি জীপ গাড়ি। মেরামত অযোগ্য এসব জীপ গাড়ি এই দীর্ঘ সময়ে নীলাম প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। তাই নীলাম না হওয়ায় ঝোপ-জঙ্গলে পূর্ণ হয়ে এর সব যন্ত্রাংশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ইঁদুর বাসা বেঁধেছে গাড়ির ভেতর। সময়মত নীলাম হলে সরকারের কোষাগারে জমা হতো কয়েক লাখ টাকা। অথচ কর্তৃপক্ষের অবহেলায় গচ্ছা গেছে সরকারি অর্থ।
সরেজমিন দেখা গেছে, অকেজো গাড়িগুলো খোলা আকাশের পড়ে থেকে রোদ-বৃষ্টি ঝড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। গাড়ির ভেতর ও বাইরের সব লোহা-লক্করে মরিচা ধরে ক্ষয়ে গেছে। মাটি আর জঙ্গলে পূর্ণ হয়েছে গাড়িগুলো। এখন আর কোন যন্ত্রাংশই কাজে লাগানো সম্বব নয় বলে জানিয়েছেন অফিসের কর্মচারিরা।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ১৯৮৯-৯০ সালের দিকে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে ৭টি জীপ গাড়ি মেরাত অযোগ্য হয়ে পড়ে। এসব গাড়ির মধ্যে ল্যান্ড রোভার, ইসুজু ও ভিটারাসহ দামী দামী কম্পানির গাড়িও ছিলো। কিন্তু দীর্ঘদিনেরও চিঠি চালাচালি ছাড়া নীলামের ক্ষেত্রে আর আর কোন অগ্রগতি হয়নি। বৈদেশিক সংস্থার ৩টি গাড়ি থাকায় প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগছে বলে বলে অজুহাত দেখাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কোন ফাইলও ছিলোনা। নীলামের উদ্যোগ নেয়ার পর চলতি বছরের গোড়ার দিকে কুড়িগ্রাম বিআরটিএ অফিস চারটি জীপগাড়ি অকেজো ঘোষণা করে প্রতিবেদন দেয়। এসব গাড়ি ‘প্রান্তিক ও খামার পদ্ধতিতে শস্য নিবিড়করণ প্রকল্প’সহ বিভিন্ন প্রকল্প থেকে পাওয়া। যা কর্মকর্তারা ব্যববহার করতেন। বাকী ৩টি গাড়ি বৈদেশিক সংস্থার হওয়ায় স্থানীয় বিআরটিএ অকেজো বা মেরামত অযোগ্য ঘোষণার প্রতিবেদন দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। তবে কমিটির মাধ্যমে অকেজো ঘোষণা করা যেতে পারে বলে মতামত দেন। গত ২৯ এপ্রিল কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালককে এসব বিষয় জানিয়ে কমিটি গঠনের অনুরোধ জানান। কিন্তু এরপর কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। কমিটি গঠন না হওয়ায় নীলাম প্রক্রিয়া শুরুই করা যায়নি। কারণ কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিআরটিএ মূল্য নির্ধারণ করবে। তারপর শুরু হবে নীলাম প্রক্রিয়া।
দীর্ঘদিনেও গাড়িগুলো নীলাম না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান বলেন, ‘ আমি যোগদানের পর আমার ষ্টাফরা ভয় দেখান যে, কোন স্যার মাথা ঘামায়নি। আপনি ওদিকে যাইয়েন না। তা সত্বেও ঢাকায় কথা বলে মোটরযান পরিদর্শককে এনে প্রতিবেদন নেই। এরপর একটি কমিটি গঠনের অনুরোধ জানিয়ে চার মাস আগে ঢাকায় পত্র দেই। কিন্তু প্রতি উত্তর আসেনি। তাছাড়া ঝামেলা এড়াতে আমরা ঢাকা থেকে নীলাম আহবান করার অনুরোধ জানিয়েছি।’

আরো খবর

আজকের সংবাদের প্রচারিত কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by GrameenFox