logo

বুধবার ১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ - ২৮শে কার্তিক, ১৪২৬ - ১৪ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

শিরোনাম

উত্তরের জনপদ কুড়িগ্রামবাসীর বহুল প্রত্যাশিত আন্তঃনগর ট্রেন ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে’র উদ্বোধন
১৬ অক্টোবর, ২০১৯

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
বুধবার দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ নতুন এ ট্রেনটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী সবুজ পতাকা নেড়ে ও বাঁশিতে হুঁইসেল দিয়ে নতুন ট্রেনটির উদ্বোধন করেন। তখন কুড়িগ্রাম প্রান্তে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। এসময় উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী মোঃ নুরুল ইসলাম সুজন এমপি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেন এমপি, মোঃ পনির উদ্দিন আহম্মেদ এমপি, জেলা প্রশাসক মোছাঃ সুলতানা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মুহিবুল ইসলাম খান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাফর আলী প্রমুখ।
কুড়িগ্রাম রেল স্টেশন প্লাটফর্মে আয়োজিত ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠানস্থল থেকে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে কথা বলেন রেল মন্ত্রী মোঃ নুরুল ইসলাম সুজন এমপি, জেলা প্রশাসক মোছাঃ সুলতানা পারভীন। এসময় জেলা প্রশাসক জেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার ফিরিস্তি তুলে ধরেন।
একজন উপকারভোগী নারী পার্বতী রাণী শীল। দুই রুম বিশিষ্ট পাকা ঘর পেয়ে আনন্দে আতœহারা হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা হরিশ্বর তালুক গ্রামের হতদরিদ্র পার্বতি রানী অন্যের বাড়িতে ঝিঁ এর কাজ করত। মাথা গোজার ঠাঁই ছিল একটি ছোট্র ঝুপরি ঘর। আর এখন পাকা ঘর, রান্না ঘর, ল্যাট্রিন যা তাঁ স্বপ্নের ভাবনার মধ্যেও ছিল না। উদ্বোধনের পর বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ আন্তঃনগর ট্রেনের বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু হবে। নতুন এ আন্তঃনগর ট্রেন উদ্বোধনের খবরে জেলাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। বুধবার ভোর থেকে হাজার হাজার নারী, পুরুষ এবং শিশু একনজর দেখতে আসে দীর্ঘ দিনের কাঙ্খিত স্বপ্নের এই ট্রেনটি। নিরাপত্তাকর্মীদের বাধাঁ উপেক্ষা করে তারা ছুঁয়ে দেখে ট্রেনটি। চলে ফটোসেশন, সেলফি। ফেসবুকে ভাইরাল এখন ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেন। এ জেনো আনন্দের বন্যা কুড়িগ্রামবাসীর।
রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি। এদিন ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৬ দিন সকাল ৭টা ২০ মিনিটে কুড়িগ্রাম রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ট্রেনটির। আর ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে কুড়িগ্রামের পথে ট্রেনটি ছেড়ে আসবে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে। যা সকাল ৬টা ২০ মিনিটে কুড়িগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাবে।
১৪টি বগি নিয়ে যাতায়াতের সময় ট্রেনটি রংপুর-বদরগঞ্জ-পার্বতীপুর-জয়পুরহাট-সান্তাহার-নাটোর-মাধনগর-টাঙ্গাইল-মৌচাক-বিমানবন্দরে যাত্রী ওঠা-নামা করবে। অর্থাৎ কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা রুটে পথে ১০টি স্থানে ট্রেনটি দাড়াবে। এসময় যাত্রীরা ওঠা-নামা করতে পারবে। ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ আন্তঃনগর ট্রেনটি প্রতিদিন ঢাকা-কুড়িগ্রামের ২৮৬ দশমিক ৮ মাইল বা ৫৪৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে। কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা যাত্রায় মোট ৬৫৭টি আসন সুবিধা এবং ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম যাত্রায় ৬৩৮টি আসন সুবিধা থাকবে। কুড়িগ্রাম রেল স্টেশনে ১৬০টি আসন সংরক্ষিত থাকবে। আসন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে শোভন চেয়ার ৫১০ টাকা, এসি চেয়ার ৯৭২ টাকা, এসি সিট ১ হাজার ১৬৮ টাকা এবং এসি বাথ ১ হাজার ৮০৪ টাকা ।
পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়িগ্রাম রেল স্টেশনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে রেল মন্ত্রী, জেলা প্রশাসক ও একজন উপকারভোগীর সাথে কথা শোনেন। এসময় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের বিভিন্ন দাবীর পরিপেক্ষিতে কুড়িগ্রামে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে ভাওয়াইয়া এ অঞ্চলের মানুষের আবেগের কথা বিবেচনা করে একটি ভাওয়াইয়া ইনিস্টিটিউট করা সম্ভব না হলেও জেলা শিল্পকলা একাডেমীর মাধ্যমে ভাওয়াই চর্চা, গবেষনা ও প্রচার- প্রসারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার প্রতিশ্রুতিদেন তিনি (প্রধানমন্ত্রী)। শেষে গণভবন প্রান্ত থেকে ’কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ এবং রেল সেক্টরের উন্নয়ন নিয়ে তথ্য চিত্র উপস্থাপন করেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান।
কুড়িগ্রামের প্রবীণ গিতৈষী সংঘের সভাপতি এ কে এম সামিউলক নান্টু বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মায়ের স্নেহে কুড়িগ্রামবাসির দুঃখ বুঝে তাঁর সমাধান করলেন ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। কুড়িগ্রামে যত উন্নয়ন দৃশ্যমান তা সবই শেখ হাসিনার হাত ধরে বাস্তবায়িত হয়েছে। তাই শেখ হাসিনার সরকার বার বার দরকার।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম টুকু বলেন, অবশেষে আমরা আন্তঃনগর ট্রেন পেলাম তা স্বপ্নের মতো লাগছে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে স্বপ্নের এ বাস্তবায়নে এতো আনন্দিত যে ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিনা।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ জাফর আলী (সাবেক এমপি) বলেন, বিএনপি সরকার আমলে কুড়িগ্রামের একটি রেল স্টেশন ও রেল লাইন তুলে নিয়ে যায়। আর শেখ হাসিনার সরকার নতুন নতুন ট্রেন দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়িগ্রামকে ভালবাসে। তাই বলতে হয়না, চাইতে হয়না-তার আগেই উন্নয়ন করেন। তারই উপহার ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ।

সর্বশেষ খবর

আরো খবর

আজকের সংবাদের প্রচারিত কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by GrameenFox