logo

মঙ্গলবার ১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ - ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ - ২১শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

শিরোনাম

পাসপোর্ট বইয়ের সংকট, চট্টগ্রামে আটকা ৮ হাজার পাসপোর্ট
১৮ মে, ২০১৯

নিজেস্ব প্রতিবেদক :: সাতকানিয়ার বাসিন্দা বৃদ্ধ মমতাজ বেগম ওমরা হজ্জ করতে সৌদিয়া আরব যাবেন। পাসপোর্টের জন্য তিনি আবেদন করেছেন প্রায় ৫৭ দিন আগে। যে নরমাল পাসপোর্ট ২০ দিনের মধ্যে তাঁর হাতে আসার কথা, ৫৭ দিনেও তা পাননি। পাসপোর্ট পেতে আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে, তা-ও জানেন না। পাসপোর্ট অফিস থেকেও পাওয়া যাচ্ছে না কোনো সদুত্তর। পাঁচলাইশস্থ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সিভয়েসকে এসব কথা জানান তিনি।

সাতকানিয়ার বাসিন্দা মমতাজ বেগমের মতো একই অবস্থা চন্দনাইশের রিফাতের। হার্টের চিকিৎসা করাতে ভারত যাবেন তিনি। জরুরি পাসপোর্টের জন্য তিনি আবেদন করেছেন প্রায় ২০ দিন আগে। যে জরুরি পাসপোর্ট ৭ দিনের মধ্যে তাঁর হাতে আসার কথা, ২০ দিনেও তিনি তা পাননি। পাসপোর্ট পেতে আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে, তা-ও জানেন না। এ নিয়ে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে মিলছে না কোনো সদুত্তর।

তাদের মতো হাজার হাজার মানুষ এমন ভোগান্তির মধ্যে আছে। মূলত পাসপোর্ট বই সঙ্কটের এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। পাসপোর্ট অফিসের চাহিদা অর্ধেকও পাসপোর্ট বই সরবরাহ করছে না ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর।

প্রতিদিন গড়ে এ অফিসে দুইশ থেকে আড়াই’শ পাসপোর্টের আবেদন জমা পড়লেও সে অনুপাতে পাসপোর্ট সরবরাহ করতে পারছে না।

সম্প্রতি এই সংকট অত্যন্ত প্রকট হয়ে উঠেছে। চট্টগ্রামে প্রায় ৮ হাজার পাসপোর্ট আটকা পড়েছে। প্রায় ২ মাস যাবত ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় হাজার হাজার মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল।

পাসপোর্ট ডেলিভারির নির্ধারিত তারিখ পার হয়ে দিনের পর দিন কেটে গেলেও প্রত্যাশীরা বুঝে পাচ্ছে না পাসপোট। এদিকে নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট পাওয়ার এসএমএস না পেয়ে অফিসে ছুটে যাচ্ছেন অনেকে।

পটিয়ার বাসিন্দা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালরে ছাত্র রাজু অভিযোগ করে বলেন, পাসপোর্ট প্রদানের নির্ধারিত সময়ের দুই মাস পর বুধবার রাতে মেসেজ পেয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার পাসপোর্ট নিতে এসেছেন। কিন্তু দুপুর ১টা পর্যন্ত বসে থেকেও পাসপোর্ট হাতে পাননি। পরে দুইশ টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট অফিসের এক কর্মচারী তাঁকে পাসপোর্ট এনে দেয়।

টাকার বিনিময়ে আবেদনকারীদের পাসপোর্ট সংগ্রহ করে দেওয়া একাধিক দালাল নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের মাধ্যমে অনেকে আবেদন করে। আমরা সিস্টেম  মাধ্যমে কাজ করিয়ে দেই। কিন্তু পাসপোর্ট বই সংকট শুরুর পর আমরাও পাসপোর্ট যথাসময়ে এনে দিতে পারছি না।  পাসপোর্ট অধিদপ্তরের চাদগাঁও আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মো. আল আমিন মৃধা  বলেন, ঢাকার সমস্যার কারণে ঠিক সময় পাসর্পোট পাচ্ছেনা। প্রায় ৮ হাজার পাসপোর্ট আটকা পড়ে আছে। নির্ধারিত তারিখের পর প্রায় দেড় মাস পরে পাসর্পোট পাচ্ছে। এ কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে অফিসে।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন) সেলিনা বানুর মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে বলেন খুব শিঘ্রই এই সমস্যার সমাধান হবে।

আরো খবর

আজকের সংবাদের প্রচারিত কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by GrameenFox