logo

সোমবার ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ - ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ - ২১শে সফর, ১৪৪১

শিরোনাম

চট্টগ্রামে টিকটিকির সিট পরিবর্তনে যাত্রীদের স্বস্তি
২৯ এপ্রিল, ২০১৯

টুকটুক গাড়ি। যেটিকে স্থানীয় ভাষায় টিকটিকি বলা হয়। চট্টগ্রাম নগরীতে এসব গাড়ির সিটে পরিবর্তন নিয়ে আসলেন বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ওসব গাড়িতে বিআরটিএ’র অনুমোদিত আসন অনুযায়ী বসার ব্যবস্থা করেন তিনি। এতে যাত্রীদের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি।

নগরীর বিভিন্ন রুটে চলে এসব টিকটিকি টেম্পু। যাতে যাত্রীদের বসার জন্য বিআরটিএ থেকে ৯ টি সিটের অনুমোদন দেয়া থাকলেও গাড়ির চালকরা সেখানে বসাতেন ১৫জন করে। এতে যাত্রীদের অনেক কষ্টে গাদাগাদি করে বসতে হত। ফলে চরম অস্বস্তি ও ভোগান্তি পোহাতে হতো। এমনকি ১৫ জন যাত্রী

না উঠলে গাড়ি চালাতো না চালকরা।

শনিবার (২৭ এপ্রিল) দেখা যায়, নগরীর চকবাজার-বারেকবিল্ডিং সড়কে চলাচলরত এসব সিএনজি চালিত টেম্পু টিকটিকির ১৫ সিটের পরিবর্তে ৯ সিট করে দিয়েছেন বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউল হক মীর।

গত ৩ মাস ধরে এসব গাড়ির মালিকদের সাথে কথা বলার পর বিআরটিএ’র নিয়মানুসারে সিট তৈরির ব্যবস্থা করেন তিনি। প্রথমদিকে গাড়ির চালক ও মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দরা গড়িমসি করলেও পরে তাদের গাড়ির কাগজ জব্দ করার পর ম্যাজিস্ট্রেট মালিক ও চালকদের আসন সংখ্যা সীমিত করে নয়জন বসার মত একটি পদ্ধতি দেখিয়ে দেন। যেখানে গাড়ির পেছনের দুই সারিতে সুন্দর করে পার্টিসান দিয়ে ৪ জন করে ৮ জন যাত্রীর আরাম করে বসার ব্যবস্থা হয়েছে এবং বিআরটিএ’র অনুমোদন অনুযায়ী চালকসহ মোট ৯জন নিয়ে যাত্রী পরিবহন করবে। এতে করে সকল যাত্রীর বিশেষ করে নারী যাত্রীদের বসতে খুবই সুবিধা হচ্ছে বলে জানা যায়।

অর্নাসে অধ্যায়নরত মেহেনুর জান্নাত নামে এক কলেজ ছাত্রী জানান, আমার প্রতিদিন আগ্রাবাদ থেকে চট্টগ্রাম কলেজে আসতে হয়। কিন্তু গাড়িতে উঠলে ধাক্কাধাক্কি, চাপাচাপি করে বসতে হয়। আবার পাশে কোন ছেলে বসলে তারা এমনভাবে মুভমেন্ট করে যাতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। এখন ম্যাজিস্ট্রেট স্যার টিকটিকিতে সুন্দরভাবে বসার সিস্টেম করে দিয়েছেন এটাকে আমরা সাধুবাদ জানাচ্ছি।

জুনায়েদ হাসান নামে এক কর্মজীবী বলেন, আমাদের প্রতিদিন কর্মক্ষেত্রে যেতে হয়। কাজের তাড়া থাকায় আমরা সহজ যানবাহন হিসেবে এসব লাইনের গাড়িতে উঠতে হয়। কিন্তু অনেক সময় ভেতরে এমন ঠাসাঠাসি করে বসতে হত যে একজনের গায়ের ঘাম অন্যের গায়ে লাগার অবস্থা। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে দেখছি গাড়ির ভেতরে সুন্দর হাতল দিয়ে বসার সুবিধা করে দেয়া হয়েছে, যেটা আগে ছিলো না। এজন্যে ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়ের ভূমিকা ছিলো প্রশংসনীয়। আমরা শুধু মহানগর নয়, উপজেলা পর্যায়েও যেন এমন সুবিধা হয় সেটা আশা করি।

কথা হয় মশিউর নামে এক টিকটিকি চালকের সাথে। তিনি সিভয়েসকে জানান, আমরা আগে ১৪-১৫ জন নিতে পারতাম। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট স্যার আমাদেরকে চাপ দিয়ে বিআরটিএর নিয়মানুযায়ী সিট তৈরি করতে বলাতে আমরা এভাবে করেছি। এখন সিটে ৯জন নিয়ে যদি আমরা যাত্রি পরিবহন করি তাহলে এতে আমাদের লস হবে।

বিআরটিএ’তে বিভিন্ন রুটে ভাড়া নির্ধারণ করা আছে সে অনুপাতে নিলে কি সমস্যা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের সংসারে খরচ, আবার সমিতিতেও টাকা দিতে হয়। মোড়ে মোড়ে আবার ট্রাফিকের কিছু টেন্ডল থাকে তারাও ১০টাকা ২০টাকা করে নিয়ে নেয়। তাহলে আমরা কোনদিকে যাবো। তাই ভাড়া না বাড়ালেও পোষাতে পারবো না।

এ ব্যাপারে বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউল হক মীরের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, আমি নিয়মিত অভিযান চালানোর সময় দেখতে পাই যে, টিকটিকি পরিবহনের যাত্রীদেরকে ভেতরে খুব ঠাসাঠাসি করে বসতে হয়। যেটি দেখতেও খুব খারাপ লাগে। যদিও বিআরটিএ থেকে ওসব গাড়িতে সর্বমোট ৯টি সিটের অনুমোদন দেয়া আছে। কিন্তু তারা এটি অমান্য করে ১৫জন করে যাত্রী বসায়। যার কারণে আমি তাদের গাড়িকে ৯জন বসার উপযোগী করে দিলাম এবং এটাতে ৯ জনের বাইরে যাতে আর কোন যাত্রী নিতে না পারে সেজন্যে আসনের পাশে হাতল লাগিয়ে পার্টিসান করার কথা বলে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, যদি অনুমোদিত সিটের বেশি যাত্রী বসায় তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

সূত্র-সিভয়েস

সর্বশেষ খবর

আরো খবর

আজকের সংবাদের প্রচারিত কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by GrameenFox