logo

বুধবার ২৪শে জুলাই, ২০১৯ - ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৬ - ২০শে জিলক্বদ, ১৪৪০

শিরোনাম

গাড়ি তল্লাশির নামে সাংবাদিককে পুলিশের হয়রানি
৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

‘পুলিশের গাড়ির ড্রাইভারও গাড়ির কাগজ চেক করতে পারে’ সাংবাদিককে হয়রানি করে বয়ান দিলেন সীতাকুণ্ড থানার এসআই প্রদ্যুত। চলন্ত মোটর সাইকেলকে আচমকা চাপা দিয়ে থামিয়ে নিজের গাড়ির ড্রাইভারকে দিয়ে কাগজপত্র দেখতে চাইলেন সীতাকুণ্ড থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রদ্যুত ঘোষ চৌধুরী। 

বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা এলাকায় সাংবাদিক আজহার মাহমুদের সাথে এ ঘটনা ঘটে। 

এসময় ওই এসআই’র কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক আজহারকে বলেন, ‘যে কেউ যে কারো কাছে গাড়ির কাগজ চাইতে পারে। পুলিশের ডাইভারতো চাইতেই পারে।’

এসআই প্রদ্যুত এর বিরুদ্ধে এর আগে সীতাকুণ্ডের স্বর্ণকারদের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছিলো বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ডের স্থানীয় সাংবাদিকরা।

বিএফইউজের নির্বাহী সদস্য আজহার মাহমুদ জানান, আনুমানিক ৬৫ কিলোমিটার বেগে তিনি মোটর সাইকেল চালাচ্ছিলেন। এ সময় আচমকা পেছন থেকে একটা প্রাইভেট কার সামনে এসে বাম পাশে চাপা দেয়। এ সময় তিনি গাড়ি স্লো করেন। পরে চলন্ত অবস্থায় ওই এসআই বলেন ‘আপনার গাড়ি থামান, চেক করবো।’ এ সময় সাংবাদিক আজহার ইশারা দিয়ে একটু সামনে আলোকিত জনাকীর্ণ স্থানে যেতে বলেন। এ কথা বলতেই এসআই’র গাড়ির ড্রাইভার পুনরায় বাইককে চাপা দেন। এ সময় প্রায় পড়তে পড়তে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেন আজহার। পরে এস আই প্রদ্যুত কোমর থেকে অস্ত্র বের করে ফিল্মি স্টাইলে দ্রুতবেগে গাড়ি থেকে নেমে আসেন। কোনো কথাবার্তা না বলেই মোবাইল ফোনে সাংবাদিক আজহারের ছবি তুলতে থাকেন। ছবি তোলার কারণ জানতে চাইলে উত্তর না দিয়ে প্রশ্ন করেরন, ‘আপনি কী সাংবাদিক?’ পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে কিছুটা হতাশ দেখায়। এ সময় আরেক লোক এসে ধমকের সুরে মোটর সাইকেলের কাগজপত্র দেখতে চান। সাংবাদিক আজহার ওই লোকের পরিচয় জানতে চাইলে এসআই জানান, তার গাড়ির ড্রাইভার। ড্রাইভার কেনো কাগজ চাইছে জানতে চাইলে এসআই বলেন, ‘সে আমার গাড়ির ড্রাইভার, সে কাগজ চাইলে কী সমস্যা?’ 

এসময় এসআই প্রদ্যুত গাড়ির কাগজ দেখার কোনো আগ্রহ না দেখিয়ে সাংবাদিক আজহারের গ্রামের বাড়ি, শহরের বাসার খোঁজ খবর নেন। অফিসের উর্দ্ধতনকে ফোন দিতে বলেন। এক উর্দ্ধতনকে ফোন দিতে বলেন। এ সময় তার ড্রাইভার পুনরায় বলেন, ‘সাংবাদিক হলে কী হবে, কাগজ দেখান।’  এক পর্যায়ে সাংবাদিক আজহার তাকে থামানোর কারন, ছবি তোলার কারণ, অন ডিউটিতে আছে কিনা জানতে চাইলে এসআই প্রদ্যুত উত্তর না দিয়ে চলে যেতে বলেন। পুনরায় কারণ জানতে চাইলে তিনি দ্রুত তার গাড়িতে উঠে চলে যান।

বিএফইউজে’র নির্বাহী সদস্য আজহার মাহমুদ এ বিষয়ে বলেন, ‘মহাসড়কের মতো ব্যস্ত সড়কে কোনো বিশেষ অভিযান ছাড়া এভাবে গাড়ি থামানো আইনসিদ্ধ নয়। থানায় খোঁজ নিয়ে দেখেছি, এসআই প্রদ্যুত অন ডিউটিতে ছিলেন না। কেবল অনৈতিক উদ্দেশ্যে অভিযানের নামে এভাবে হয়রানি করা হয়। তার উপর ওই এসআই একা একা এই ধরণের অভিযান চালাতে পারেন না। আর কোনো ধরণের অনুমতি ছাড়া এভাবে ছবি তোলা মানহানিকর। আবার ড্রাইভারকে দিয়ে কাগজপত্র চেক করা রীতিমতো অন্যায়। এরকম ব্যক্তি উদ্যেগে এমন অনেক পুলিশ সদস্য অভিযানের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। সুযোগ পেলে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে। এর আগেও সীতাকুণ্ড থানা এলাকায় এই ধরণের ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি। আরো অনেকে এমন অভিযোগ দিয়েছে। এমন কর্মকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার, যাতে নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানি না হয়।’

সাংবাদিক আজহার বলেন, ‘যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে সেটি ডাকাত প্রবণ এলাকা। অতীতে ওই এলাকায় অনেকবার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসআই প্রদ্যুত যে গাড়িতে ছিলেন, সেটি পুলিশের গাড়ি নয়। তার গায়ে পুলিশের পোশাকও ছিলোনা। তার সাথে পুলিশের অন্য কোনো সদস্যও ছিলোনা। তিনি যে আচরণ দেখিয়েছেন সেটা ছিলো ডাকাতসুলভ। তাকে পরিচয়পত্র দেখাতে বললেও তিনি দেখাননি। মহাসড়কের অনেক স্থান জনমানবশূণ্য হওয়ার সুযোগ নিয়ে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে।’

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন সিভয়েসকে বলেন, সাংবাদিকের সাথে হয়রানির বিষয়টি এখনো আমার কানে আসেনি এমনকি সাংবাদিকও আমাকে বলেননি। এসআই প্রদ্যুত যদি এহেন কাজ করে বলে অভিযোগ করে তাহলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের যোগসাজশে এক নারীকে ধর্ষণের পর  ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানোর চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সীতাকুণ্ড থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) তিন পুলিশ সদস্য মামলাটি সাজিয়েছেন।

:: সূত্রঃ সিভয়েস ::

সর্বশেষ খবর

আরো খবর

আজকের সংবাদের প্রচারিত কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by GrameenFox