logo

বৃহস্পতিবার ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৯ - ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ - ১৪ই রবিউস-সানি, ১৪৪১

শিরোনাম

বিরাষ্ট্রীয়করণ থেকে সাড়ে ৭২ হাজার কোটি রুপি সংগ্রহের লক্ষ্য
৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে ৭২ হাজার ৫০০ কোটি রুপির বিরাষ্ট্রীয়করণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভারত সরকার। এ লক্ষ্য পূরণে সরকারকে একাধিকবার দালাল স্ট্রিটের বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের শরণাপন্ন হতে হবে। খবর ব্লুমবার্গ।

গত বুধবার ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। বাজেট বক্তৃতায় সরকার বিরাষ্ট্রীয়করণ নীতি অব্যাহত রাখবে বলে জানান তিনি। বাজারে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ছাড়তে এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডসের (ইটিএফ) ওপর ভরসা করবে ভারত সরকার। কৌশলগত এবং অন্যান্য শেয়ার বিক্রি ছাড়াও রেলওয়ের তিনটি সংস্থা ও পাঁচটি বীমা কোম্পানির আইপিও ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন জেটলি। প্রতিটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বীমা কোম্পানির ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করবে ভারত সরকার। বীমা কোম্পানিগুলোর শেয়ার থেকে ১১ হাজার কোটি রুপি ও অন্যান্য কৌশলগত বিক্রি থেকে আরো ১৫ হাজার কোটি রুপি সংগ্রহের আশা করছে সরকার। এছাড়া বাকি ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি রুপি অন্যান্য বিনিয়োগ প্রত্যাহার থেকে সংগ্রহ করা হবে।

৯২ বছর পর এবারই প্রথম মূল বাজেটের সঙ্গে এক সঙ্গে রেলওয়ে বাজেট পেশ করেছে ভারত। বিরাষ্ট্রীয়করণ প্রক্রিয়ার আওতায় রেলওয়ের তিনটি সংস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংস্থাগুলো হলো ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম লিমিটেড (আইআরসিটিসি), ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ফিন্যান্স করপোরেশন লিমিটেড (আইআরএফসি) ও ইরকন (ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কন্সট্রাকশন) ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। ক্যাটারিং ও আতিথেয়তা এবং অবকাঠামো ব্যবসার লাভজনক দুটি প্রতিষ্ঠান আইআরসিটিসি ও ইরকন ইন্টারন্যাশনাল। তবে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠান দুটির তুলনায় আইআরএফসির সম্পদমূল্য অনেক বেশি।

রেলওয়ের সংস্থা তিনটির পাশাপাশি এরই মধ্যে পাঁচটি পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সাধারণ বীমা কোম্পানির আইপিও বিক্রির অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে ভারত সরকার। কোম্পানিগুলো হলো ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ওরিয়েন্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, নিউ ইন্ডিয়া অ্যাসুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, জেনারেল ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন অব ইন্ডিয়া ও ইউনাইটেড ইন্ডিয়া অ্যাসুরেন্স লিমিটেড।

উল্লিখিত কোম্পানিগুলো গাড়ি, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, গৃহ, নৌ ও বাণিজ্য বীমা সেবা প্রদান করে। বর্তমানে ভারতে একমাত্র থার্ড পার্টি ইন্স্যুরার হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে জেনারেল ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন। তবে আগামী এপ্রিল থেকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ বীমা বাজারে থার্ড পার্টি ইন্স্যুরার হিসেবে কাজ শুরু করবে লয়েডস।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় সরকারের মালিকানাধীন এ আট প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ পরিশোধের হার ছিল ৪০ থেকে ৮৫০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বাজারে ছেড়ে নগদ অর্থ লাভ করলে অন্যান্য সরকারি কোম্পানির প্রয়োজনীয় মূলধন হিসেবে সরকার তা সরবরাহ করতে পারবে। কয়েক বছর ধরেই বাজেটে বিরাষ্ট্রীয়করণ লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে চলেছে ভারত সরকার। তবে টানা ছয়বারের মতো এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে দেশটি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে নির্ধারিত সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬৬ শতাংশ অর্জন করায় ভারত সরকারের সংগ্রহ ছিল সাড়ে ৪৫ হাজার কোটি রুপি। অস্থিতিশীল বাজার পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল সরকারি শেয়ারের ওপর।

বিরাষ্ট্রীয়করণ ছাড়াও ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে আয়কর ও করপোরেট করহার হ্রাসের প্রস্তাব দিয়েছেন জেটলি। বছরে আড়াই লাখ থেকে ৫ লাখ রুপি উপার্জনকারীর আয়কর হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন তিনি। এছাড়া ছোট ও মাঝারি আকারের কোম্পানির করহার ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। স্বল্প আয়ের মানুষের করহার হ্রাসের পাশাপাশি অধিক উপার্জনকারীদের ওপর নতুন কর প্রস্তাব করেন জেটলি। তিনি বার্ষিক ৫০ লাখ রুপি থেকে ১ কোটি রুপি পর্যন্ত উপার্জনকারীর আয়ে ১০ শতাংশ সারচার্জ আরোপের প্রস্তাব করেছেন। ভোগ্যপণ্য ও গাড়ি নির্মাতারা মোদি সরকারের কর হ্রাসের এ প্রস্তাবনায় উপকৃত হবেন।

চলতি বাজেটে গ্রামীণ ও অবকাঠামো খাতে ব্যয় বৃদ্ধির অঙ্গীকার করেছেন জেটলি। সরকারি অর্থায়নকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও জনকল্যাণে ব্যয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে মোদি সরকার। রেলওয়ে, বিমানবন্দর, রাস্তা ও বন্দর নির্মাণ এবং আধুনিকায়নে ৩ লাখ ৯৬ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে কৃষিঋণ। চলতি অর্থবছরে কৃষকদের ১০ লাখ কোটি রুপি ঋণ দেবে ভারত সরকার।

চলতি বাজেটের ভোগ্যপণ্য ও গাড়ি নির্মাতা এবং কৃষকদের পাশাপাশি উপকৃত হবে রিয়েল এস্টেট, ব্যাংক, ফাইবার অপটিকস ও অবকাঠামো খাত। তবে বাজেটের কারণে চাপের মুখে পড়বে ওষুধ ও সিগারেট কোম্পানিগুলো।

আয়কর কমিয়ে আনায় টয়লেট্রিজ, গৃহস্থালি পণ্য, গাড়ি ও মোটরসাইকেলের বিক্রি বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ কারণে আইটিসি লিমিটেড, হিন্দুস্থান ইউনিলিভার লিমিটেড, ম্যারিকো লিমিটেড, মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া লিমিটেড ও হিরো  মোটর করপোরেশেন লিমিটেডের শেয়ার প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া কৃষিঋণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সার ও ট্রাক্টরের বিক্রি বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে নোট প্রত্যাহারের কারণে মন্দ অবস্থায় থাকা রিয়েল এস্টেট খাত চাঙ্গা করতে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন প্রকল্পের মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছে। সেসঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ঋণদানকারী সংস্থাগুলোয় অন্তত ১০ হাজার কোটি রুপি অর্থায়নের পাশাপাশি মন্দ ঋণ নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ জোরদার করবে ভারত।

অন্যদিকে গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে নতুন অর্থবছরে ওষুধের দাম কমিয়ে আনতে চলমান নিয়মকানুন সংশোধন করা হবে। সিগারেটের ওপর ৬ শতাংশ আবগারি শুল্ক ও তামাকজাত পণ্যের ওপর কর আরোপ করায় বাজেটের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তামাক শিল্প-সংশ্লিষ্ট খাতগুলোয়।

সর্বশেষ খবর

আরো খবর

আজকের সংবাদের প্রচারিত কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by GrameenFox