logo

মঙ্গলবার ১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ - ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ - ২১শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

শিরোনাম

মার্কিন অর্থনীতিতে ট্রাম্পের পদক্ষেপের প্রভাব
৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে অভিবাসন বন্ধের নির্বাহী আদেশের প্রভাবে মন্থর হয়ে পড়তে পারে মার্কিন অর্থনীতি। বিশেষ করে দেশটির শীর্ষ দুই রফতানিনির্ভর শিল্প পর্যটন ও উচ্চশিক্ষায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে করারোপ করলে তাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের রূপরেখারই আমূল পরিবর্তন ঘটাবে। খবর এপি ও ব্লুমবার্গ।

মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ ও নাফটা থেকে সরে আসার ঘোষণার পর পরই অভিবাসন-সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। তার এ পদক্ষেপ শুধু সাতটি দেশ নয়, বরং অন্যান্য দেশের ভ্রমণকারী ও ছাত্রদেরও যুক্তরাষ্ট্রে আসতে নিরুত্সাহিত করতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।

ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ একই সঙ্গে তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ও বিশ্বায়নের বিমুখী মনোভাবের প্রকাশ। আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ বাণিজ্যিক অবস্থান চীন ও অন্যান্য অর্থনীতির সামনে শূন্যস্থান পূরণের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে দিচ্ছে।

কাম্বারল্যান্ড অ্যাডভাইজরসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা ডেভিড কোটোক বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈশ্বিক বিনিময়ের দুটি ইতিবাচক দিক পণ্য ও পরিষেবা উভয়কেই পিছিয়ে আনছেন। মার্কিন অর্থনীতিতে বিদেশী পর্যটকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ২০১৫ সালে দেশটিতে বিদেশী পর্যটকরা হোটেল কক্ষ ও রেস্তোরাঁয় খাবার থেকে শুরু করে উড়োজাহাজের টিকিট এবং বিনোদন পার্কের পেছনে প্রায় ১৯ হাজার ৯০০ কেটি ডলার ব্যয় করেছেন, যা আসলে রফতানি আয় হিসেবে বিবেচিত। ২০১৫ সালে মার্কিন রফতানিতে প্রায় ৯ শতাংশ অবদান রেখেছে ভ্রমণ ও পর্যটন।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, ট্রাম্পের এসব নির্বাহী আদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-পরবর্তী পরিস্থিতি তৈরি করবে। সে সময় কঠোর নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেশটিতে ভ্রমণ কমে গিয়েছিল। এদিকে বহু উচ্চপ্রযুক্তির কোম্পানি ট্রাম্পের অভিবাসননীতির বিরোধিতা করেছে। কোম্পানিগুলো জানায়, এ সিদ্ধান্ত উচ্চদক্ষতাসম্পন্ন প্রতিভা নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় তাদের পিছিয়ে রাখবে। অ্যাপলের সিইও টিম কুক বলেন, অভিবাসন ছাড়া অ্যাপলের অস্তিত্বই থাকবে না। অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস সিরীয় অভিবাসীর সন্তান ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় বিদেশী ছাত্রদের ভর্তি এবং টিউশন ফিও মার্কিন রফতানি হিসেবে ধরা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০১৫ সালে বিদেশী ছাত্রদের ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে পৌঁছে, যা তিন বছর আগের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।

পর্যটন ও শিক্ষা খাত থেকে আয় যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি হ্রাসে সহায়ক। এ খাত দুটি থেকে আয়ের পরিমাণ বিদেশে গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ রফতানি আয়ের চেয়ে বেশি। ২০১৫ সালে গাড়ি ও যন্ত্রাংশ রফতানি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আয়ের পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার। এছাড়া দেশটির কৃষি রফতানির পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।

এদিকে মেক্সিকোর সঙ্গে সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণে সহায়তার জন্য রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যদের প্রস্তাবিত সীমান্ত কর বৈশ্বিক বাণিজ্যের রূপরেখা বদলে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সীমান্তে ২০ শতাংশ করারোপ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে জড়িত দেশগুলো যে ক্ষতির মুখোমুখি হবে, তা হিসাব করে দেখিয়েছেন ডয়েচে ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ রবিন উইঙ্কলার ও জর্জ সেরাভেলোস। এ পদক্ষেপের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মেক্সিকো। এছাড়া ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডসহ এশিয়ার ম্যানুফ্যাকচারিং নির্ভর অর্থনীতি ও কানাডা বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। উইঙ্কলার ও সেরাভেলোস বলেন, ক্ষতির পরিধি বৃহদাকার হবে।

বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে এবং স্থানীয় উৎপাদকদের রফতানি আরো প্রতিযোগিতামূলক করার জন্য সাধারণত আমদানিকৃত পণ্যের ওপর সীমান্ত করারোপ করা হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে কোন দেশের পণ্যের চাহিদা কেমন, তার ওপর নির্ভর করে আরোপিত সীমান্ত করের প্রভাব পড়বে। যেসব দেশের পণ্যের চাহিদা বেশি, সেসব দেশকে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এ পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য লাভজনক হলেও দেশটির বাণিজ্য অংশীদারদের জন্য তা মোটেও সুখকর হবে না। উইঙ্কলার ও সেরাভেলোস দেখান, যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ পণ্যের চাহিদা প্রচুর রয়েছে। কিন্তু সীমান্ত কর ১০০ কোটি ডলারের উদ্বৃত্তকে ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের ঘাটতিতে রূপান্তরিত করতে পারে, যা দুই দেশের গড় বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। ডয়েচে ব্যাংকের অর্থনীতিবিদদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত কর-সংক্রান্ত নীতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কে পতন ঘটাবে।

www.ajkersongbad24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।

আরো খবর

আজকের সংবাদের প্রচারিত কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ

Developed by GrameenFox